কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে ফিরলেন আরও ৭৮ বাংলাদেশি

আপলোড সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ০৬:২৪:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ০৬:২৪:০২ অপরাহ্ন

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম বা প্রতারক চক্রের বন্দিদশা থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৭৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। উন্নত জীবনের আশায় দেশটিতে গিয়ে এসব বাংলাদেশি ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
 

এ নিয়ে গত চার দিনে কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম চক্রের কবল থেকে উদ্ধার হয়ে মোট ২২১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।
 

বিমানবন্দরে ফেরা এসব প্রবাসীকে জরুরি এবং নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত খরচ হিসেবে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এই কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেছে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি।
 

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, মানবপাচারের অন্যতম একটি ভয়ংকর রূপ হচ্ছে এই সাইবার স্ক্যাম। বিদেশে মোটা অঙ্কের বেতনের লোভ দেখিয়ে অনেককে কম্বোডিয়ায় নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হতো।
 

মূলত যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বের নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই প্রতারণা চালানো হতো। চক্রের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে প্রবাসীদের ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
 

শরিফুল হাসান আরও বলেন, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক কিছু অভিযানের কারণে এসব বাংলাদেশিকে স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর পেছনে জড়িত পুরো চক্রটিকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তদন্তের প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দেওয়া তথ্য বলছে, গত দেড় বছরে কাজের খোঁজে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। তবে দেশে ফেরা ভুক্তভোগীদের দাবি, কাঙ্ক্ষিত কাজ না পেয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি সেখানে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
 

দেশে ফেরা এক ভুক্তভোগী জানান, বৈধ ছাড়পত্র নিয়ে ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ করে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দরে এক মাসের ভিজিট ভিসা দেওয়া হলেও পরে আর কাজের ভিসা দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে দালাল ও এজেন্সির লোকেরা তাকে প্রতারক চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়।
 

আরেক ভুক্তভোগী জানান, স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে না চাইলে টর্চার সেলে নিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়াসহ চরম নির্যাতন করা হতো। পুলিশের অভিযানের সময় বিদেশি নিয়ন্ত্রকরা পালিয়ে গেলে তারা মুক্তি পান।
 

এর আগে গত ১২ জুন ৩৭ জন, ১৩ জুন ৫৪ জন এবং ১৫ জুন ৫২ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরেন। গত বুধবার ফেরা ৭৮ জনসহ চার দিনে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২১ জনে।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
ইমেইল : [email protected]