দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলির ক্ষমতা এখন থেকে পুরোপুরি মাঠ প্রশাসনের হাতে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার বদলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) স্থানীয় প্রশাসন এই বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সোমবার (১৫ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে শিক্ষক বদলির নতুন এই নীতিমালার বিষয়টি জানা যায়।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বদলি প্রক্রিয়াটি বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে। মূলত দুর্নীতি এড়াতে ও স্বচ্ছতা আনতেই স্থানীয় প্রশাসনকে এই ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী— উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং সিটি করপোরেশন পর্যায়ে আলাদা কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করবে।
জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। তাদের যাচাই শেষে বদলির চূড়ান্ত আদেশ জারি করবেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
একইভাবে জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের কমিটি এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এসব কমিটিতে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে জটিলতা ও ভোগান্তি বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা। অন্তত ১০ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা জানিয়েছেন, অনলাইনে বদলি চালুর পর পুরোনো সিন্ডিকেট অনেকটাই ভেঙে গিয়েছিল।
তাদের আশঙ্কা, এখন বদলির ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ে গেলে সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর বড় সুযোগ তৈরি হবে। এতে প্রকৃত প্রয়োজনের চেয়ে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ বেশি গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামসুদ্দীন মাসুদ মনে করেন, নতুন এই নীতিমালায় সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হবে। কারণ, বিদ্যালয়ের শূন্যপদ বা শিক্ষকের চাহিদা সম্পর্কে মাঠ প্রশাসনের বাইরের কর্মকর্তাদের চেয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের ধারণাই বেশি স্পষ্ট।
একই ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ে গেলে সাধারণ শিক্ষকরা তদবিরের সুযোগ পাবেন না, ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এর বদলে অধিদপ্তরের হাতে ক্ষমতা রেখে একটি স্বচ্ছ কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ জানান, বদলির ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে গেলে ডিসি ও ইউএনওদের ওপর মারাত্মক রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে। এতে করে তদবির ও অর্থের প্রভাব বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
তবে ভিন্ন কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি দাবি করেন, বদলি প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতেই এই বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। অতীতের সিন্ডিকেট ভাঙতেই সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ।