দুবাই পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন সাবেক আইজিপি বেনজীর

আপলোড সময় : ১৪-০৬-২০২৬ ০৬:১০:৪৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৬-২০২৬ ০৬:১০:৪৯ অপরাহ্ন

দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় পলাতক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সেখানকার পুলিশ তাকে আটক করে। বর্তমানে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
 

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এই তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই দুর্নীতিগ্রস্ত এই সাবেক আইজিপিকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীরের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল ইন্টারপোল।
 

এই নোটিশের সূত্র ধরেই গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ই-মেইল করে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের খবরটি জানায়। বর্তমানে তিনি সেখানকার পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
 

ইউএইর আইন অনুযায়ী আটকের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামিকে হস্তান্তরের প্রস্তাব (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠাতে হয়। সেই প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুদকের সমন্বয়ে বেনজীরকে ফিরিয়ে আনার সব নথিপত্র এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আবুধাবিতে পাঠানো হচ্ছে। এই সফলতাকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
 

উল্লেখ্য, তথ্য গোপন করে ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বেনজীর আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এই মামলাতেই মূলত তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে শুরু করে আইজিপি হওয়া পর্যন্ত বেনজীর আহমেদ নিজের সরকারি পরিচয় গোপন করেছিলেন। তিনি পুলিশ, র‍্যাব এবং ডিএমপির শীর্ষ পদে থেকেও পাসপোর্টের আবেদনে পেশার ঘরে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ বা বেসরকারি চাকরিজীবী উল্লেখ করে প্রতারণার আশ্রয় নেন।
 

এমনকি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ছাড়াই সাধারণ ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। এই চরম অনিয়মে তাকে সহযোগিতা করায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আরও চার কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।
 

জানা গেছে, বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
ইমেইল : [email protected]