হানি ট্র্যাপ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং টাকা না দিলে হত্যার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী আরেকটি চক্রের তিন সদস্যকেও আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই জানায়, ঢাকা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের মূলহোতা এস এম সালমানসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি ব্যক্তিগত গাড়িও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা স্বামী-স্ত্রী অথবা ভাই-বোন পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিত। এরপর পরিকল্পিতভাবে তরুণদের টার্গেট করে ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ আদায় করত তারা।
সম্প্রতি রাজধানীর তুরাগ নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লোকমান নামের এক যুবকও এই ভয়ংকর চক্রের নির্মম শিকার। দাবিকৃত টাকা না পেয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পিবিআই।
অন্যদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মানবপাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। তারা ইতালি ও জার্মানিসহ উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।
র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা মানবপাচার ও প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে এবং একাধিক ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে। অপরাধ দমনে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।