রাজশাহীর আমের হাটগুলোতে এখন মধুমাসের রমরমা বিকিকিনি চলছে। তবে বাজারে ক্রেতা ও ব্যাপারীর সমাগম কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন বাগান মালিক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটে এমন চিত্র দেখা যায়।
বর্তমানে বাজারে গুটি আমের পাশাপাশি গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া ও লখনার মতো জনপ্রিয় সব জাতের আম উঠতে শুরু করেছে। তবে ঈদের ছুটির প্রভাব থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা এখনও পুরোপুরি আসা শুরু করেননি।
বাগান মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, খরার পর সেচ দিয়ে আম রক্ষা করলেও এখন ন্যায্য দাম মিলছে না। বাজারে গুটি আমের চাহিদা কম থাকায় প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।
মন্টু নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, ব্যাপারী না থাকায় লখনা আম মাত্র ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
একই আক্ষেপ শোনা যায় চাষি শহিদুল ইসলামের কণ্ঠে। তিনি জানান, বছরজুড়ে বাগান পরিচর্যা করে যে খরচ হয়েছে, বর্তমান বাজারদরে সেই আসল টাকা ওঠানোই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বানেশ্বর বাজারের আড়তদার মনিরুল ইসলাম মানিকের মতে, চাহিদা কম থাকায় পাইকাররা আমের অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে দামের ওপর। ফলে হাটের বেচাকেনাও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
তবে দাম কম হওয়ায় বেশ স্বস্তিতে আছেন সাধারণ ক্রেতারা। হাটে আসা প্রাঞ্জল ও কামরুল জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের দাম বেশ হাতের নাগালে, তাই নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়দেরও উপহার দিতে পারছেন।
বর্তমানে হাটে গোপালভোগ প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ এবং ক্ষিরসাপাত ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এসব আমের দাম মণপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা বেশি ছিল।
হাটের ইজারাদার জাকির হোসেন রাসেল জানান, এখন প্রতিদিন গড়ে অর্ধকোটি টাকার কেনাবেচা হচ্ছে। তবে পুরোদমে আম নামা শুরু হলে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার লেনদেন ছাড়াবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। শুধু রাজশাহীতেই এবার প্রায় হাজার কোটি টাকার আমের বাণিজ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক পাপিয়া রহমান মৌরী জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে বাজারে শতভাগ নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত আম নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এদিকে, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুর রহমান শান্তন জানান, আমভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে এবং সংরক্ষণ ও রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।