পণ্য খালাস এবং বাণিজ্যিক জাহাজের আনাগোনায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলায় এক অভাবনীয় গতিশীলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে বন্দরটি বর্তমানে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক ও জনসংযোগ শাখা থেকে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে আমদানির এই সফলতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোংলা বন্দরে মোট ৪৫টি কন্টেইনারবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে। এসব জাহাজ থেকে সর্বমোট ২৮ হাজার ২৪১ টিইইউজ (TEUs) কন্টেইনার সফলভাবে হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হয়েছে।
কন্টেইনারের পাশাপাশি এই বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানির গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী। চলতি অর্থবছরের গত ১১ মাসে এখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১০ হাজার ৮৮০টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খালাস করা হয়েছে, যা দেশের অটোমোবাইল বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এর বাইরেও সাধারণ কার্গো ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য মিলিয়ে এ পর্যন্ত বন্দরটিতে মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৬ মেট্রিক টন পণ্য সফলভাবে খালাস করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্দরের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ পুরোপুরি শেষ হলে মোংলা আন্তর্জাতিক মানের একটি অত্যাধুনিক সমুদ্রবন্দরে রূপান্তরিত হবে।
এ প্রসঙ্গে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব কালাচাঁদ সিংহ জানান, পশুর চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ফলে এখন নাব্যতা অনেক বেড়েছে। এর ফলে বেশি ড্রাফটের (গভীরতার) বিদেশি জাহাজগুলো অনায়াসেই সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীবান্ধব পরিবেশ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় দেশি-বিদেশি আমদানিকারকরা মোংলা বন্দর ব্যবহারে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিক টার্মিনাল ও অটোমেশন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে আগামীতে এই বন্দরের সক্ষমতা ও রাজস্ব আয় বহুগুণ বেড়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।