ক্যানসার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী ইনজেকশন আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। প্রচলিত কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি কাজ করে না এমন রোগীদের শরীরে এটি প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ টিউমার নির্মূলের অবিশ্বাস্য সাফল্য পাওয়া গেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ‘নজিরবিহীন’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোববার (৩১ মে) যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ক্যানসার চিকিৎসার এই অভূতপূর্ব সাফল্যের খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ১১টি দেশে আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে রোগীদের শরীরে এই নতুন ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছিল। যাদের ক্যানসার পুনরায় ফিরে এসেছে বা অন্যান্য চিকিৎসায় কোনো সুফল মেলেনি, মূলত তাদের ওপরই এই পরীক্ষাটি চালানো হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি ‘অ্যামিভ্যান্টাম্যাব’ (Amivantamab) নামের এই ইনজেকশনটি এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোগীর টিউমার ছোট করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন রোগীর টিউমার সম্পূর্ণভাবে গলে গেছে বা নির্মূল হয়ে গেছে।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের (আইসিআর) অধ্যাপক এবং রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট কেভিন হ্যারিংটন বলেন, যেসব রোগীর ক্যানসার কেমোথেরাপি বা প্রচলিত চিকিৎসায় প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে, তাদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী সমাধান। এর মাধ্যমে প্রতি বছর হাজারো রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।
জানা গেছে, এই ‘স্মার্ট’ ইনজেকশন ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রধানত তিনটি উপায়ে কাজ করে। এটি টিউমার বৃদ্ধিকারী ইজিএফআর প্রোটিনকে বাধা দেয়, ক্যানসার কোষের প্রচলিত চিকিৎসাকে ফাঁকি দেওয়ার পথ বন্ধ করে এবং সবশেষে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে।
মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ১০২ জন রোগীর ওপর ট্রায়ালে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ৪৩ জনের টিউমার ছোট বা বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও দারুণ কার্যকর এই ইনজেকশন।
বর্তমানে মস্তিষ্ক, পাকস্থলী ও মলাশয়ের ক্যানসার নিরাময়েও এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ক্যানসার বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্মেলন ‘অ্যাসকো’র বার্ষিক সভায় গবেষণাটির পূর্ণাঙ্গ ফলাফল উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
এই ইনজেকশন নিয়ে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের বাসিন্দা কার্ল ওয়ালশ (৫৬) জানান, ২০২৪ সালে তার জিবে ক্যানসার ধরা পড়ে। প্রচলিত চিকিৎসায় কাজ না হওয়ায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি এই ট্রায়ালে যুক্ত হন।
একসময় ব্যথায় কথা বলতে বা খেতে না পারা কার্ল এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। এমনকি শিরায় স্যালাইনের বদলে ত্বকের নিচে দেওয়া এই ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অত্যন্ত মৃদু বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।