প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ও কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তরা। নতুন বেতন কাঠামোতে আয় বৈষম্য কমিয়ে এসব কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দিকেই জোর দিচ্ছে সরকার।
বুধবার (২৭ মে) অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর এই পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলে নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন আনুপাতিক হারে বেশি বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কিছুটা কম রাখা হতে পারে।
এমনটি করা হলে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে থাকা বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যারা কম পেনশন পান, তাদের জন্যও থাকছে বড় সুখবর। বিশেষ করে যাদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার নিচে, তাদের ভাতা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে আছেন। তাই নতুন বেতন কাঠামোতে তাদের সুরক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ প্রজাতন্ত্রের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন এই বেতন কাঠামোর আওতাভুক্ত হবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও একই ধরনের নির্দেশনার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে চলমান ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাকে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর ফলে বেতন বাড়লেও রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কিছুটা সহনীয় হবে।
সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন, সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারির পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।