রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ওপেন ইন্টারন্যাশনাল বায়োলজি অলিম্পিয়াড (ওআইবিও)’-২০২৬ প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছেন বাংলাদেশের রূপকথা রায়। মুন্সীগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজের একাদশ শ্রেণির এই মেধাবী শিক্ষার্থীর অনন্য অর্জনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল হয়েছে দেশের নাম।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার এই তরুণীর অভাবনীয় সাফল্যের খবর জানা যায়। এর আগে, গত ১৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত রাশিয়ার সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরিতে বসেছিল জীববিজ্ঞানভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক আসর।
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পেছনে ফেলে জীববিজ্ঞানের জটিল তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় নিজের অসাধারণ দক্ষতা প্রমাণ করেন রূপকথা।
গবেষণাভিত্তিক প্রশ্ন, ল্যাব পরীক্ষা ও বায়োইনফরমেটিক্সের মতো বিষয়গুলোর কারণে ওআইবিও বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক দক্ষতা যাচাইয়ের অন্যতম বড় মঞ্চ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। অংশ নেওয়া দেশগুলো এটিকে ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী তৈরির একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিজ্ঞানের বাইরেও রূপকথার সাফল্যের পালক বেশ ভারী। সম্প্রতি জাপান ইয়ুথ সামিটে পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে অংশ নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ জন প্রতিনিধির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।
পাশাপাশি ‘মডেল ইউনাইটেড নেশনস (এমইউএন)’-এ ‘সেরা প্রতিনিধি’ ও ‘আউটস্ট্যান্ডিং ডেলিগেট’ হিসেবেও দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন রূপকথা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ঝুলিতে সব মিলিয়ে সাতটির বেশি পুরস্কার রয়েছে।
শুধু পড়াশোনা কিংবা কূটনীতিতেই নয়, সংস্কৃতির জগতেও সমান উজ্জ্বল এই শিক্ষার্থী। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উচ্চাঙ্গসংগীত, নজরুলসংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তিনি।
পড়াশোনার বাইরে জলবায়ু সহনশীলতা, গবেষণা ও যুব উদ্ভাবনী চিন্তায় তার গভীর আগ্রহ রয়েছে। নিজ স্কুলের স্টুডেন্ট পার্লামেন্টের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে তার মা প্রমিতা শিখা রায় বালিগাঁও আমজাদ আলী কলেজের কৃষিবিদ্যার প্রভাষক এবং বাবা নবীন কুমার রায় একজন ব্যবসায়ী।
স্বর্ণজয়ের পর উচ্ছ্বসিত রূপকথা বলেন, "এই অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের সাফল্য। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান গবেষণার মাধ্যমে দেশের জন্য আরও বড় কিছু করতে চাই।"
হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষকরা রূপকথাকে একজন অত্যন্ত বিনয়ী, সৃজনশীল ও অধ্যবসায়ী শিক্ষার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, রূপকথার এই বিশ্বজয় দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।