ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালুর ঘোষণার পর হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে সীমান্ত পরিস্থিতি। ধরপাকড় এড়াতে এবার স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসতে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন সীমান্তে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিক।
মঙ্গলবার (২৬ মে) উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপয়েন্টসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার সরেজমিন চিত্রের বরাত দিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, গত রোববার পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার চালুর ঘোষণা দেন। এরপর সোমবারের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এসব সেন্টার পুরোদমে চালু হয়ে যায়।
এমনকি কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই ১২ জন বাংলাদেশিকে আটক করে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মূলত এই ধরপাকড় শুরুর পরই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর থানার বিঠারি হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চেকপয়েন্টে মানুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। দালালদের মাধ্যমে বা অবৈধভাবে যারা ভারতে গিয়েছিলেন, তারাই এখন মরিয়া হয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এদিন নারী ও শিশুসহ অন্তত ৬০০ বাংলাদেশি নাগরিক শুধু হাকিমপুর সীমান্তেই জড়ো হন। এর আগে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরুর সময়ও সীমান্তে এমন ভিড় ও দেশে ফেরার হিড়িক দেখা গিয়েছিল।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, অবৈধদের শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরাসরি বিএসএফের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
সরাসরি এমন শাস্তির ঘোষণার কারণেই মূলত অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বহুগুণ বেড়ে গেছে। ঝুঁকি এড়াতে তারা দলে দলে সীমান্তের দিকে ছুটছেন।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের আগে অবৈধ বাংলাদেশিদের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ করার কড়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতায় আসার মাত্র ২০ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেই মাঠে নেমেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার।