জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটে একটি ক্ষিপ্ত মহিষের অতর্কিত হামলায় দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে এই প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়। এর আগে রোববার (২৪ মে) উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী কোরবানির পশুর হাটে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন এবং দেওয়ানগঞ্জের চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে মজিবুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকন্দপাড়া গ্রামের এক বিক্রেতা বিক্রির উদ্দেশ্যে হাটে কয়েকটি মহিষ নিয়ে আসেন। হঠাৎ এর মধ্যে একটি মহিষ ক্ষিপ্ত হয়ে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মুহূর্তের মধ্যেই মহিষটি পুরো হাটজুড়ে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। এ সময় মহিষের সামনে পড়া লোকজন অতর্কিত আক্রমণের শিকার হন।
আক্রমণ থেকে বাঁচতে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দৌড়াদৌড়ি করে পালাতে গিয়ে রুহুল আমিনসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মজিবুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে মজিবুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, মহিষের আক্রমণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দুজনে দাঁড়াল।
ওসি আরও জানান, এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। হাট কর্তৃপক্ষের দাবি এটি নিতান্তই দুর্ঘটনা, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।