রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের বিচার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুন পাসপোর্টে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ যুক্ত করাসহ দেশের মুদ্রায় বড় পরিবর্তন এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে চার বন্দির সাজা মওকুফের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) সচিবালয় রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান। অন্যদিকে, কারা অধিদপ্তরের এআইজি (প্রিজন) জান্নাতুল ফরহাদ হোসেন বন্দি মুক্তির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই পৈশাচিক ঘটনার অপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই এর বিচার কার্যক্রম শেষ করা হবে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। দেশের মাটিতেই তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় সরকার।
জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলন মূলত বিএনপির ধারণা। ভবিষ্যতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে এই রিকনসিলিয়েশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পাসপোর্ট ও মুদ্রায় পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন পাসপোর্টে আবারও 'একসেপ্ট ইসরায়েল' কথাটি যুক্ত করা হবে, যা দেশের সাধারণ মানুষের দাবি। আগের পাসপোর্টে দলীয় বা ব্যক্তিচর্চা ছিল, তবে এখন থেকে এতে শুধু বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি থাকবে।
একইসঙ্গে দেশের মুদ্রায় দলীয় চিন্তার বাইরে গিয়ে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি যুক্ত করার ঘোষণাও দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধেও কড়া বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, লাগামহীন ব্যবহারের কারণে অন্যের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং পারিবারিক জীবন হুমকিতে পড়ছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও বেটিং বন্ধ করতে দ্রুত যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা হবে।
অন্যদিকে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানবিক বিবেচনায় দেশের চারজন বন্দির সাজা মওকুফ করেছে সরকার। কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ ক্ষমতার আওতায় খুব শিগগিরই তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।
মুক্তি পেতে যাওয়া এই চার কয়েদি হলেন—ফরিদপুর জেলা কারাগারের নাঈম শিকদার, খুলনার মো. ইসলাম শেখ, রাঙামাটির পলাশ বড়ুয়া এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের আব্দুল মালেক। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ে তাদের মুক্তি কার্যকর হবে।