ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর গোপন পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই চাঞ্চল্যকর ছক কষা হয়েছিল।
বুধবার (২০ মে) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন—ইরানের ভেতর থেকে কেউ যদি দেশটির দায়িত্ব নেন, তবে বিষয়টি দারুণ হবে। যুদ্ধ শুরুর প্রায় আড়াই মাস পর জানা গেল, ট্রাম্প মূলত মাহমুদ আহমাদিনেজাদকেই ইঙ্গিত করেছিলেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর এই পুরো ছকটি তৈরি করেছিল ইসরায়েল। তবে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা একজন ঘোর মার্কিনবিরোধী নেতাকে কেন তারা বেছে নিয়েছিল, সেই রহস্য এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
একসময় ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দেওয়া আহমাদিনেজাদ পরে বর্তমান ইরানি শাসকদের কট্টর সমালোচক হয়ে ওঠেন। এ কারণেই তাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তা ও আহমাদিনেজাদের সহযোগীরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম দিনই তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাড়িতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। মূলত তাকে গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্ত করে নিজেদের পক্ষে আনতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল।
হামলার সময় পাহারারত প্রহরীরা নিহত হলেও আহমাদিনেজাদের বাড়ির বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ওই ঘটনায় তিনি এতটাই আহত হন যে, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এই পরিকল্পনা থেকে তিনি নিজেই পরে সরে দাঁড়ান।
এরপর থেকে সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, ইসরায়েলের এই পরিকল্পনা এতটাই বিস্ময়কর যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আহমাদিনেজাদ কীভাবে এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হলেন বা এতে রাজি হয়েছিলেন, তার কোনো সদুত্তর এখনো মেলেনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুয়াতেমালা ও হাঙ্গেরি সফরের কারণে আহমাদিনেজাদকে নিয়ে পশ্চিমা ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলার মাত্র কয়েক দিন আগে হাঙ্গেরি থেকে ফিরে তিনি নীরব থাকায় ইরানিদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছিল।
এর আগে ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেছিলেন তিনি। ট্রাম্পকে একজন 'কাজের মানুষ' উল্লেখ করে সে সময় দুই দেশের সম্পর্ক মেরামতের পক্ষেও যুক্তি দেখিয়েছিলেন সাবেক এই ইরানি প্রেসিডেন্ট।