কোনো ধরনের ঘুষ, তদবির বা সুপারিশ ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মানিকগঞ্জে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন ২৬ জন তরুণ-তরুণী। সরকারি আবেদনের ফি বাবদ মাত্র ১২০ টাকা খরচ করেই তাদের এই স্বপ্নপূরণ হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই-বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কনস্টেবল পদে ২৬টি শূন্য পদের বিপরীতে অনলাইনে মোট আবেদন করেছিলেন ১ হাজার ৩২৯ জন চাকরিপ্রত্যাশী।
আবেদনকারীদের মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ৯৬০ জন প্রার্থী শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেন। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে লিখিত পরীক্ষার সুযোগ পান ২৬৫ জন।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪৫ জনকে ডাকা হয় মৌখিক পরীক্ষায়। সবশেষে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর মেধার ভিত্তিতে ২৬ জনকে কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়।
বিনা টাকায় মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া এই তরুণ-তরুণীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হওয়ায় সাধারণ পরিবারের সন্তানরাও এখন যোগ্যতার জোরে চাকরি পাওয়ার সাহস পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর। এখানে কোনো ধরনের ঘুষ, দুর্নীতি বা তদবিরের সুযোগ নেই।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘আমরা কেবল যোগ্য ও মেধাবীদেরই বাছাই করেছি। অত্যন্ত স্বচ্ছ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে সৎ ও দক্ষ সদস্য যুক্ত হচ্ছেন।’
মাত্র ১২০ টাকার বিনিময়ে মেধার ভিত্তিতে পুলিশের চাকরি পাওয়ার এই ঘটনা মানিকগঞ্জজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সততা ও স্বচ্ছতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।