আজ এইচএসসি ও সমমানের ফল, জানবেন যেভাবে

আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:০৯:০০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:০৯:০০ পূর্বাহ্ন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর)। সকাল ১১টায় একযোগে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ফল ঘোষণা করা হবে। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
 

সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর প্রায় আড়াই মাসের অপেক্ষার অবসান হবে।
 

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় ফল ঘোষণা করা হবে। প্রথমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে অন্য অনুষ্ঠান থাকায় পরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
 

তিন উপায়ে জানা যাবে ফল

 

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা তিনভাবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানতে পারবেন।
 

প্রথমত, পরীক্ষার্থী যে শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছেন, সেই বোর্ডের সরকারি ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে।
 

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির নির্ধারিত দুটি ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে। ওয়েবসাইট দুটি হলো—eduboardresult.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd।
 

তৃতীয়ত, মুঠোফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে HSC লিখে একটি স্পেস দিতে হবে। এরপর শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
 

উদাহরণ: HSC DHA 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
 

ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১ নভেম্বর

 

প্রকাশিত ফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আবেদন চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন করতে হবে অনলাইনে; সরাসরি বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
 

আবেদনের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর ড্রপডাউন তালিকা থেকে শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরবর্তী ধাপে একটি মুঠোফোন নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
 

এরপর শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যেসব বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
 

প্রতিটি পত্রের জন্য পুনর্নিরীক্ষণ ফি ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত নিয়ম আবেদন পোর্টালের ‘হেল্প’ অপশনে পাওয়া যাবে।
 

ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলেই আবেদন সম্পন্ন হবে।
 

আবেদন পরিবর্তন ও বিষয় বাতিলের নিয়ম

 

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দেওয়ার পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় তা করা যাবে। তবে নতুন করে মুঠোফোন নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
 

ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে আগে নির্বাচিত বিষয় বাদ দিয়ে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে।
 

তবে কোনো বিষয়ের ফি একবার পরিশোধ করা হলে সেটি আর বাতিল করা যাবে না। পরিশোধ করা ফিও ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
 

পাসের হার কমার আভাস

 

এদিকে, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে পাসের হার কমতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, এবার প্রথমবারের মতো সারা দেশে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ফলে রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন। এতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
 

কয়েকজন প্রধান পরীক্ষকের সঙ্গে কথা বলেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফল প্রকাশের আগে পাসের হার বা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা যে ধরনের পরীক্ষা দিয়েছে, সে অনুযায়ী ফল পাবে। ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত, যা শুধু শিক্ষা বোর্ডের একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।
 

পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

 

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
 

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।
 

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাম্মদ আরিজ উলফি 
নির্বাহী সম্পাদক: আবুল হুসাইন 
সহযোগী সম্পাদক: মো: মনিরুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক: সাইফুর রহমান প্রিন্স 
সহযোগী সম্পাদক: মো: আলমগীর হোসেন

ঠিকানা:
সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
টেলিফোন: +৮৮০২২২২২২৩৫৫০
ইমেইল : shokolshongbad@gmail.com