ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে গরু-মহিষ চুরি বন্ধ, খামারিদের নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও সরকারি সহায়তার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন গবাদিপশু পালনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে এসব দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন তাঁরা।
মানববন্ধনে ভোলা সদর উপজেলা মহিষ মালিক সমবায় সমিতির নেতাসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের খামারিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীবেষ্টিত চর মদনপুর, চর গাজীপুর, চর বৈরাগী, চর কালী, চর কাঁকড়া, চর নেয়ামতপুর, মধুপুর ও চর কাচিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গরু-মহিষ পালন করে আসছেন স্থানীয়রা। এসব গবাদিপশুই তাঁদের জীবিকার প্রধান উৎস। কিন্তু সম্প্রতি এসব এলাকায় গবাদিপশু চুরি বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন। নদীবেষ্টিত ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় চুরি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল জরুরি বলে দাবি করেন তাঁরা।
মানববন্ধন থেকে চর মদনপুরে স্থায়ী নিরাপত্তাক্যাম্প স্থাপন এবং পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসারের সমন্বয়ে যৌথ টহল জোরদার করার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া চুরি হওয়া গবাদিপশু উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান খামারিরা। একই সঙ্গে দুর্যোগ ও চুরি থেকে গবাদিপশু রক্ষায় চরাঞ্চলে ‘কিল্লা’ বা মাটির উঁচু ঢিবি নির্মাণ, নিয়মিত পশু চিকিৎসা ক্যাম্প চালু, টিকা ও কৃত্রিম প্রজননসেবা নিশ্চিত এবং খামারিদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে দুপুরে ভোলা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন খামারিরা। ভোলা সদর উপজেলা মহিষ মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাসেম মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিনের সই করা ওই স্মারকলিপিতে চুরি হওয়া গবাদিপশু উদ্ধার করা সম্ভব না হলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি ভোলার মহিষের দই ‘জিআই পণ্য’ হওয়ায় এর ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উৎপাদনকারী পশুপালকদের প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।