বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। চাপের মুখে এবার সংস্থাটির পরিচালন কাঠামো পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি। ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে স্বাধীন বাহ্যিক পর্যালোচনার কথাও বলেছেন তিনি।
ফিফা কাউন্সিলের সদস্য এবং ২১১টি সদস্যদেশের ফুটবল সংস্থার সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দুটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন ইনফান্তিনো। বড় কৌশলগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো স্বাধীন কোনো সংস্থাকে দিয়ে পর্যালোচনা করানো হবে কি না, সেটি কাউন্সিলের কাছে জানতে চাইবেন তিনি। একই সঙ্গে কনফেডারেশন, সদস্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের পরামর্শ প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাবও দিয়েছেন।
মূল বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প। এই পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব ছিল। উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও কনকাকাফসহ বিভিন্ন পক্ষের বিরোধিতার পর গত জুলাইয়ে পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়।
এ বিষয়ে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, বিষয়টি সিদ্ধান্ত নয়, কেবল প্রস্তাবের পর্যায়েই ছিল। পূর্ণাঙ্গভাবে কাউন্সিল ও সদস্যদেশগুলোর সামনে তোলার আগেই পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে চলে আসায় এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা হয়েছে। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘এটি প্রস্তাব ছিল, সিদ্ধান্ত নয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপরই সবকিছু নির্ভর করত। এখন সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং আর এগোবে না।’
প্রস্তাবিত সংস্কারে সভাপতি, ব্যুরো, কাউন্সিল ও কংগ্রেসের মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কীভাবে ভাগ হবে, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর উপায়ও পর্যালোচনার অংশ করার কথা বলেছেন ইনফান্তিনো। আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের সভায় এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বিধিবদ্ধ কোনো পরিবর্তন আনতে হলে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে।
এই সংস্কার উদ্যোগ এমন সময়ে এল, যখন আগামী মার্চে আবারও ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো। বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে বিরোধ ও সমালোচনা বাড়লেও নেতৃত্বে থাকার ব্যাপারে নিজের অবস্থান বদলাননি তিনি।