জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ৮ পয়সা এবং সিটি সার্ভিসের বাসে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে লঞ্চের ভাড়া প্রতি নটিক্যাল মাইলে ৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রস্তাবের কথা জানান বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। পাশাপাশি ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাস ও লঞ্চের ভাড়া বাড়া স্বাভাবিক। তবে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় থেকেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সুবিধা একচেটিয়াভাবে বাস ও লঞ্চমালিকদের দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তৎপর হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ, জনস্বার্থে ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাস ও লঞ্চমালিকদের নিয়ে দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এসব বৈঠকের তথ্য গণমাধ্যমের কাছেও গোপন রাখা হয়। ভাড়া নির্ধারণ কেবল মালিক সমিতি ও সরকার মিলে করলেও তা সব অংশীজনের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা হয়।
সংগঠনটি আরও বলছে, দেশের বৃহত্তর অংশীজন যাত্রীসাধারণের প্রতিনিধিদের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো মতামত নেওয়া হয় না। পরিবহন পরিচালনায় মালিকদের কত টাকা ব্যয় বেড়েছে, সেই হিসাবও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। এ ছাড়া বাড়তি পরিচালন ব্যয় সমন্বয়ের জন্য কত পয়সা ভাড়া বাড়ানো প্রয়োজন, সে বিষয়েও স্বচ্ছ কোনো তথ্য দেওয়া হয় না।
বিগত সরকারের সময় থেকে এভাবে পরিবহনমালিকদের সুবিধা দেওয়ায় সাধারণ মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাই ভাড়া পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে লুকোচুরি না করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।