মাসুদ রানা, কুমিল্লা: স্ত্রীর মর্যাদা এবং সন্তানের পৈতৃক স্বীকৃতির দাবিতে কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক সৌদিপ্রবাসী ব্যক্তির বাড়িতে দুই দিন ধরে অবস্থান করছেন হ্যাপি আক্তার (২৭) নামের এক নারী।
গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে তিনি দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের বদুরুদ্দি হাজিবাড়িতে অবস্থান করছেন। হ্যাপি আক্তার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কলাতলী গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দেবীদ্বার পৌরসভার বারেরা গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে সৌদিপ্রবাসী এনামুল হকের সঙ্গে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবে হ্যাপির বিয়ে হয়। এরপর তাঁরা জেদ্দা শহরের আলকোমরা এলাকার একটি হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে বসবাস করতেন। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হ্যাপিকে দেশে পাঠিয়ে দেন এনামুল।
বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে হ্যাপি ছেলে ইকরামুলের জন্ম দেন। স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে দেশে আসার পরও এনামুল নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং ভরণপোষণের খরচ পাঠাতেন। তবে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে তাঁকে নিজের ঘরে তুলে না নিয়ে দীর্ঘদিন টালবাহানা করায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে হ্যাপি গত বুধবার স্বামীর বাড়িতে এসে অবস্থান নেন। হ্যাপি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বাড়িতে আসার কারণে স্বামীর মুঠোফোন থেকে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ঘরে তুলে না নিলে সন্তানকে নিয়ে সেখানেই আত্মহত্যা করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে এনামুলের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে অবস্থানরত এনামুলের দেশে আরেকটি সংসার রয়েছে এবং সেখানে তাঁর দুটি ছেলেসন্তান আছে। এ বিষয়ে প্রবাসী এনামুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হ্যাপির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও বর্তমানে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে, তাই তাঁকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবেন না তিনি। তবে ইকরামুল তাঁরই ছেলে বলে স্বীকার করেছেন এনামুল।
এনামুলের ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন বলেন, তাঁর ভাই দেশে এলে সন্তান ও বিয়ের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তাঁরা ছেলেটির ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করাবেন এবং প্রমাণ হলে তাকে তাঁরাই লালন-পালন করবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা অবহিত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।