চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই দিনে পরীক্ষা ও ভোটগ্রহণ থাকলে পরীক্ষাকেন্দ্র এবং যাতায়াত নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। এতে সারা দেশের প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। রুটিন অনুযায়ী, আগামী ১৩ ডিসেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অথচ ওই দিনই দেশের অন্তত ৮০টি উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র এবং ভোটকেন্দ্র হিসেবে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়। একই দিনে পরীক্ষা ও নির্বাচন হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র জটিলতা, যাতায়াত সমস্যা এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেহেতু পরীক্ষার রুটিন আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, তাই নির্বাচনের তারিখ পুনর্বিবেচনা করার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এর আগে গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার (অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, স্কুল-কলেজের টেস্ট পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলো বিবেচনায় নিয়েই সাত ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি, সব বিষয় ভাবা হলেও জুনিয়র বৃত্তির গণিত পরীক্ষার তারিখটি হয়তো ইসির নজরে আসেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, নির্বাচন কমিশন একটি সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বোর্ড কমিশনের সঙ্গে কথা বলবে। ১৩ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের গণিত পরীক্ষা থাকায় ওই দিন ভোটগ্রহণ না করে অন্য কোনো দিনে নেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে ইসির সঙ্গে আলোচনা করা হবে।