দক্ষিণ লেবাননের ‘আলি তাহের’ শৈলশিরা অঞ্চলে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধ্বংস করতে শক্তিশালী বিস্ফোরক দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সুড়ঙ্গ ধ্বংস করতে এক হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চালানো ইসরায়েলের এই হামলার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে লেবাননে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য কম্পন অনুভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই কম্পনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইডিএফের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পর আকাশে এক বিশালাকার অগ্নিকুণ্ড জ্বলে ওঠে। শৈলশিরার ছয় কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত নাবাতিয়েহ শহরের অধিবাসী এবং ৪০ কিলোমিটার উত্তরের সাইদা শহরের বাসিন্দারাও এই প্রচণ্ড কম্পন অনুভব করেন। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা কেঁপে উঠলে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ও শিশুরা বৈরুতের দিকে পালাতে শুরু করে, ফলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইডিএফ দাবি করেছে, ধ্বংস করা ভূগর্ভস্থ ওই অবকাঠামোটির মধ্যে হিজবুল্লাহর ‘বদর ইউনিট’ পরিচালিত একটি কমান্ড সেন্টার ছিল। সেখান থেকে প্রচুর রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাইন উদ্ধার করা হয়েছে। দুই দশক ধরে ইরানের অর্থায়নে নির্মিত কৌশলগত এই ঘাঁটি ধ্বংসের মাধ্যমে ওই এলাকায় কাঙ্ক্ষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গত মার্চ মাসে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর গত সপ্তাহে শৈলশিরাটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। পরবর্তীতে জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে ইসরায়েলি দখলেই রয়ে গেছে। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের বিষয়ে হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৩৬২ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৯৫ জন নারী ও ২৫৯ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল নিশ্চিত করেছে যে সংঘাতে তাদের ৪০ জন সেনা ও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।