বহুল প্রতীক্ষিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষেই ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশাসনিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে সারা দেশে একযোগে ভোট না করে ধাপে ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। তবে এবারের স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইসি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব তথ্য জানান।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের বার্ষিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া বা তার আগের ফাঁকা সময়কে বিবেচনা করে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবে কমিশন। এ ছাড়া ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিরসনে তিনি জানান, এটি একটি সম্পূর্ণ রুটিন কাজ। কোনো ধরনের অনিয়ম এড়াতে সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ভোটারদের আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনীতি ও প্রার্থী হওয়ার দাবির বিপক্ষে ইসির স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। কমিশন জানিয়েছে, শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের গঠনমূলক পরিবেশ ও নিরপেক্ষতাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকার কর্তৃক কমিশনকে রাজনৈতিক চাপে রাখার যে অভিযোগ উঠেছে, তা ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে কমিশনার বলেন, মূলত ইসিকে চাপে ফেলার জন্যই এমন দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে।
নির্বাচনকে আধুনিক ও কারচুপিমুক্ত করতে বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি সমর্থিত পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদারে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।