বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম উবার তাদের মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বার্তার মাধ্যমে কর্মীদের এ তথ্য জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারা খোসরোশাহি।
উবারের সাম্প্রতিক এসইসি নথির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩৪ হাজার কর্মী কাজ করছেন। সেই হিসাবে নতুন এই ছাঁটাই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কর্মী চাকরি হারাতে যাচ্ছেন।
কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে উবার জানিয়েছে, তাদের বৈশ্বিক কার্যক্রমকে আরও সহজ ও দ্রুত করা প্রয়োজন। বর্তমানে বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে উবারের কার্যক্রম বিস্তৃত। ফলে বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের কারণে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
কর্মীদের দেওয়া বার্তায় দারা খোসরোশাহি বলেন, উবারে ‘গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পরিবর্তন’ আনা হচ্ছে। কর্মীসংখ্যা কমিয়ে আরও দক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এর ফলে দায়িত্ব কার ওপর, তা আরও স্পষ্ট হবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি, সমন্বয়ের পেছনে কম সময় ব্যয় করে নতুন পণ্য ও সেবা তৈরিতে বেশি মনোযোগ দেওয়া যাবে।
কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি কিছু দেশে নিজেদের ব্যবসাও গুটিয়ে নিচ্ছে উবার। গতকাল বুধবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আফ্রিকা মহাদেশের নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে তানজানিয়া থেকেও নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত উবার বিশ্বের নগর পরিবহনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল। প্রচলিত ট্যাক্সির বিকল্প হিসেবে নিজেদের গাড়ি ব্যবহার করে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে রাইড শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি খাবার ও খুচরা পণ্য সরবরাহ এবং স্বল্প দূরত্বে কুরিয়ার সেবায়ও প্রবেশ করে তারা।
তবে বিভিন্ন দেশে উবারের চালকদের পারিশ্রমিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। অনেক চালকের অভিযোগ, শ্রম ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের তুলনায় তাঁরা যথাযথ পারিশ্রমিক পান না।