হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ঠেকানো যাচ্ছে মানুষের সঙ্গে সংঘাত

আপলোড সময় : ৩১-০৭-২০২৬ ১০:১৯:০০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৭-২০২৬ ১০:১৯:০০ পূর্বাহ্ন

ভারতে বন্য প্রাণী সংরক্ষণে নীরবে বিপ্লব ঘটাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। বন কর্মকর্তাদের রিয়েল-টাইমে প্রাণীদের গতিবিধি শনাক্ত করতে সহায়তা করছে এই প্রযুক্তি। ফলে মানুষ ও বন্য প্রাণীর মধ্যে সম্ভাব্য বিপজ্জনক সংঘর্ষ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
 

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়ার কাছে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় দেখা গেছে, কীভাবে এআইচালিত নজরদারি ক্যামেরা এবং বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ কয়েক মিনিটের মধ্যেই মানুষ-হাতির একটি সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে সক্ষম হয়েছে। ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস কর্মকর্তা পারভীন কাসওয়ানের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে এবং বন্য প্রাণী ও কাছাকাছি জনবসতি—উভয়কেই রক্ষা করতে মাঠপর্যায়ে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে।
 

কাসওয়ানের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই রাত আনুমানিক ১২টা ৩২ মিনিটে এআই-সক্ষম নজরদারি ক্যামেরাগুলো বনের সীমানা থেকে একটি হাতির দলকে কাছের একটি গ্রামের দিকে এগিয়ে যেতে শনাক্ত করে। সিস্টেমটি সঙ্গে সঙ্গেই এই গতিবিধি চিহ্নিত করে এবং বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে একটি স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা (অ্যালার্ট) পাঠায়।
 

বার্তা পাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই কাছাকাছি থাকা একটি র‍্যাপিড রেসপন্স টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা হাতির দলটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং সেগুলোকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেয়। এতে মানুষ ও হাতির একটি সম্ভাব্য সংঘাত সফলভাবে এড়ানো সম্ভব হয়। ২৮ জুলাই নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ওই ভিডিও শেয়ার করে পারভীন কাসওয়ান লিখেছেন, ‘এটি আমাদের একটি রুটিন কাজ। প্রতিদিন রাতে আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এ ধরনের একাধিক সতর্কবার্তা এবং জনসাধারণের কলের জবাব দেন, যা মানুষ এবং বন্য প্রাণী উভয়কেই রক্ষা করে।’
 

ভিডিওটিতে দেখা যায়, হাতির দলটি অন্ধকারের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে, যা নাইট-ভিশন নজরদারি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এআই সিস্টেমটি হাতির দলটিকে শনাক্ত করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ট জারি করে। ফলে বন্য প্রাণীগুলো মানুষের বসতিতে পৌঁছানোর আগেই কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পান।
 

এই ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী বন্য প্রাণী সংরক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহারের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই এই প্রযুক্তিকে জননিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এআইয়ের ব্যবহারের একটি বাস্তবসম্মত উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এটি খুবই চমৎকার। এআইয়ের সঠিক ব্যবহার সত্যিই দারুণ সুবিধা নিয়ে আসে।’ অন্য একজন বলেছেন, ‘পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত, কিন্তু সবকিছু খুব সুন্দরভাবে সামলানো হয়েছে। অনেক জীবন বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ।’
 

ভাইরাল ভিডিওটির কারণে বিষয়টি এখন আলোচনায় এলেও ভারতে অনেক দিন ধরেই বন্য প্রাণী সংরক্ষণে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর ও মাদুক্কারাই বনাঞ্চলে এআইচালিত থার্মাল ক্যামেরা সিস্টেম চালু রয়েছে। বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইনের দিকে হাতি এগিয়ে এলে চালক ও বন বিভাগকে আগেভাগেই সতর্ক করে দেয় এই সিস্টেম। চালুর পর থেকে এই সিস্টেম ছয় হাজার ৫৯২ বারের বেশি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা বা সংঘাত এড়াতে সাহায্য করেছে এবং এর ফলে সেখানে হাতির মৃত্যুর হার শূন্যে নেমে এসেছে।
 

ওডিশার রাউরকেলাতেও একইভাবে রেললাইনের কাছে চলে আসা হাতির দল বা শাবকদের এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করে ট্রেন থামিয়ে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের আশপাশের গ্রামে হাতির ডাক শনাক্ত করতে এবং বাঘের গর্জন বা মৌমাছির আওয়াজ তৈরি করে হাতিকে গ্রামের লোকালয় থেকে দূরে রাখতে বিশেষ এআই অডিও ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
ইমেইল : [email protected]