দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস–সংকট: কারখানায় উৎপাদনে ধস, পাম্পে দীর্ঘ সারি

আপলোড সময় : ৩০-০৭-২০২৬ ০৯:৪৮:৫৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৭-২০২৬ ০৯:৪৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে চরম গ্যাস–সংকট দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে পরিবহন খাত ও শিল্পকারখানাগুলো। গ্যাসের চাপ না থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন তলানিতে নেমে আসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে পোশাক, ডাইং ও নিটিং শিল্প।
 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর দশা এখন করুণ। কোথাও গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ নেই, আবার কোথাও পাম্প একেবারেই বন্ধ। খোলা থাকা পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভ্যাপসা গরম ও প্রখর রোদে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পেয়ে গাড়ি চালাতে না পারায় রোজগারে টান পড়েছে চালকদের।
 

কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা জানেন না পাম্পসংশ্লিষ্টরাও। দুজন লাইন ম্যানেজার জানান, আগে ৬০ লিটারের একটি সিলিন্ডার পূর্ণ করতে দুই মিনিট সময় লাগত। এখন ৬ মিনিটে মাত্র অর্ধেক পূর্ণ করা যাচ্ছে। গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে সারা মাস বিক্রি করে কমিশন থেকে পাম্পের বিদ্যুৎ বিলের টাকা উঠবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত।
 

টানা এক সপ্তাহের তীব্র গ্যাস–সংকটে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গাজীপুরের ছোট-বড় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কারখানার বড় অংশই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। চাপ কম থাকায় ডাইং কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক কারখানায় বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ।
 

সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় জেনারেটর, বয়লার ও বিভিন্ন উৎপাদন যন্ত্র স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এতে অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠাতে অতিরিক্ত খরচে উড়োজাহাজে (এয়ার শিপমেন্ট) পাঠাতে হবে, এমনকি কিছু ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে।
 

শিল্পনগরী নরসিংদীতেও কারখানার কর্মঘণ্টা চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। এর মধ্যেই কিছু ফিলিং স্টেশনে নিয়মবহির্ভূতভাবে সিলিন্ডার ভর্তি ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনারে গ্যাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
 

গ্যাস–সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে। সেখানে ডাইং ও পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। জেলার গ্যাসনির্ভর প্রায় ৫৫০টি শিল্পকারখানা ও ৩৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
 

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে তিতাস গ্যাসের নারায়ণগঞ্জ জোনের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মনজুর আজিজ মোহন বলেন, ‘ইদানীং গ্যাসের যে সমস্যা হচ্ছে, সেটি অল্প কয়েক দিন থাকবে। আশা করি, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে গ্যাস–সংকট নিরসন হবে।’
 

তবে সংকট সমাধানে শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোগান্তি লাঘবে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও খাতসংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
ইমেইল : [email protected]