লামিন ইয়ামাল: এক অদম্য মুসলিম নারীর ত্যাগে বিশ্বতারকা হয়ে ওঠার গল্প

আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ১২:০৫:৫১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ১২:০৭:০৪ অপরাহ্ন

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। তবে এই তরুণ ফরোয়ার্ডের আজকের এই শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর গল্পটি কেবল ফুটবল মাঠের নয়; এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম ও এক অদম্য নারীর চরম আত্মত্যাগের ইতিহাস।
 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদনে ইয়ামালের জীবনের এই অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ামালের ফুটবল ক্যারিয়ারের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল আজ থেকে কয়েক দশক আগে। তাঁর দাদি ফাতিমা রোমানি পরিবারকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দেওয়ার আশায় মরক্কো থেকে একাই স্পেনের উদ্দেশে রওনা হন। কোনো বৈধ কাগজপত্র ও আর্থিক সংস্থান ছাড়া অচেনা এক দেশে পাড়ি জমানোর সেই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
 

স্পেনে পৌঁছে ফাতিমা প্রথমে আলজেসিরাস ও গ্রানাদায় অবস্থান করেন। পরে কাতালুনিয়ার মাতোরো শহরের রকাফোন্দা এলাকায় থিতু হন তিনি। মরক্কোয় রেখে আসা সন্তানদের (যাঁদের মধ্যে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই ছিলেন) স্পেনে নিয়ে আসার জন্য ফাতিমা দিনে একাধিক শিফটে কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন। একটানা কাজ করে জমানো অর্থ দিয়ে শেষ পর্যন্ত সন্তানদের নিজের কাছে এনে পরিবারকে পুনর্মিলিত করতে সক্ষম হন এই অদম্য নারী।
 

পরবর্তী সময়ে ইয়ামালের শৈশবে তাঁর মা–বাবার বিচ্ছেদ ঘটলে দাদি ফাতিমা আবারও পরিবারের মূল স্তম্ভ হয়ে দাঁড়ান। রকাফোন্দার কঠিন পরিবেশের মধ্যেও তিনি ইয়ামালকে পরম মমতায় আগলে রাখেন, তাঁকে মানসিক স্থিতিশীলতা দেন এবং ফুটবলের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে উদ্বুদ্ধ করেন।
 

পেশাদার ফুটবলে চূড়ান্ত সাফল্য পাওয়ার পরও ইয়ামাল নিজের শৈশব ও দাদির অবদান ভুলে যাননি। মাঠে গোল করার পর তিনি আঙুল দিয়ে যে ‘৩০৪’ সংখ্যাটি প্রদর্শন করেন, তা মূলত তাঁর বেড়ে ওঠা রকাফোন্দা এলাকার পোস্টকোড (০৮৩০৪)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।
 

ইয়ামাল বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন, ফুটবল মাঠে ট্রফি জেতার চেয়েও তাঁর কাছে বেশি আনন্দের বিষয় হলো বাবা, মা ও দাদিকে শান্তিতে রাখা। ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে রকাফোন্দাতেই দাদি ফাতিমার জন্য একটি বাড়ি কিনে দিয়েছেন ইয়ামাল। ফাতিমা এখনো সেই বাড়িতেই বসবাস করছেন। বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে থাকার পরও নিজের অতীত ও দাদির আত্মত্যাগের কথা ইয়ামাল সব সময় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
ইমেইল : [email protected]