দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারত থেকে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বা পুশইনের একাধিক চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এসব অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে আটটি পৃথক পুশইন প্রতিরোধের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঝিনাইদহের মহেশপুরের যাদবপুর সীমান্তে ভারত থেকে তিনজন প্রবেশের চেষ্টা করলে শূন্যরেখায় তাদের আটকে দেয় বিজিবি। কড়া বাধায় বাধ্য হয়ে তারা আবার ভারতের ভেতরে ফিরে যায়।
একইভাবে নওগাঁর করমুডাঙ্গা সীমান্তে ১৭ জনকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। সেখানেও বিজিবির টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটকে দেয়।
লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
এছাড়া লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের দিঘলটারী সীমান্তে সাতজন এবং দুর্গাপুর সীমান্তে আরও চারজনকে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়। বিজিবির প্রতিরোধের মুখে ওই চার ব্যক্তি বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চরে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে, পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্তে ১০ ব্যক্তিকে কাঁটাতারের বাইরে এনে রাখে বিএসএফ। এ নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশি হিসেবে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি বিএসএফ।
নেত্রকোণার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসামে একটি স্কুলে ১৬-১৭ জনকে জড়ো করেছিল বিএসএফ। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বাধ্য হয়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিজিবি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পরিপন্থি এ ধরনের কোনো পুশইন মেনে নেওয়া হবে না। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট