মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার কাতারে এবার নতুন করে চারটি কারিগরি খাতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতও দেশীয় কর্মীদের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের দেয়া তথ্যের বরাতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা যায়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, কাতার সম্প্রতি ইলেকট্রিক্যাল, এসি টেকনিশিয়ান, প্লাম্বিং এবং ওয়েল্ডিং—এই চারটি সুনির্দিষ্ট খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এজন্য কাতারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা তৈরি করে কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে সেখানে পাঠানো হবে।
রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠানোর শীর্ষ দশটি দেশের তালিকায় কাতারের অবস্থান বেশ শক্ত। বর্তমানে দেশটিতে নির্মাণ, প্রকৌশল ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা পেশায় প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে কাতার আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশটিতে গেছেন আরও ২০ হাজারের বেশি মানুষ।
সম্প্রতি কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি ঢাকা সফরে এসে এখানকার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন। এরপরই মূলত তিনি নতুন এই ৪টি খাতে কর্মী নেয়ার আগ্রহের কথা জানান।
কাতারের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি প্রতিনিধিদলও সম্প্রতি ঢাকা সফর করেছে। তারা দুবাইয়ের জন্য ট্যাক্সি চালক হিসেবে বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বর্তমানে দক্ষ জনশক্তির ওপর বেশি জোর দিলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এখনো অনেকটাই পিছিয়ে আছে বলে মনে করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান জানান, কাতার সুনির্দিষ্ট যেসব খাতে দক্ষ কর্মী চাইছে, বাংলাদেশ যদি তা তৈরি করে দিতে পারে তবে সেটি অত্যন্ত ইতিবাচক হবে। মধ্যপ্রাচ্য, জাপান বা ইউরোপ—সব জায়গাতেই এখন দক্ষ কর্মীর কদর।
তিনি আরও বলেন, এই দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়াটি টেকসই করতে হলে দেশে কারিগরি শিক্ষাকে দ্রুত বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠাতে সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে ঢেলে সাজানোর বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
একই সঙ্গে কাতারগামী কর্মীদের ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করতে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে মেডিকেল ও ভিসা সেন্টার স্থাপনের জন্য দেশটির সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ডেস্ক রিপোর্ট