ফ্রান্সে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তবে এসব প্রস্তাবে সব দাবি পূরণ হয়নি জানিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্যারিসে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা, স্কুল সংস্কারে ঋণ দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান ভর্তি ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হচ্ছে।
মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি লুই লেতুবলঁ বলেন, তাঁদের সব দাবি পূরণ হয়নি। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
তবে প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়নে কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা-ও স্পষ্ট নয়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সংখ্যালঘু সরকার বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দেশটির সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১২০ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী বছরের বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে পরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরাও যোগ দিয়েছেন। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসা এসব আন্দোলনকারীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
এর আগে দেশটির কয়েক ডজন শহরে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
মাখোঁ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামী সপ্তাহান্তেও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। আগামী ৫ নভেম্বর দেশজুড়ে বড় বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভের পর মার্সেই শহরের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন এবং জরুরি সেবাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল রাখার কথা বলেন। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান।
জনসমর্থনে এগিয়ে মেরিন লো পেন
চলমান অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লো পেনের জনসমর্থন বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে তাঁর সমর্থন ৩২ থেকে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ দেখানো হয়েছে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোর সমর্থন ১৭ শতাংশ।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে ১ হাজার ৪৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েকটি শহরে কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠী ও কট্টর বামপন্থী কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
নুনেজের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয়তাবাদী ও পরিচয়ভিত্তিক কয়েকটি সংগঠন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষার কথা বলে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছিল। নিস ও মনপেলিয়ের মতো শহরে এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা সংগঠিতভাবে উপস্থিত হয়ে মূলত কট্টর বামপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু করেন।
এদিকে, বিক্ষোভের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক দোকান বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ফ্রান্সের বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারগুলোর নেটওয়ার্কের প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো বলেন, অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিক্রি প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। রেডিও ক্লাসিককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, দোকানিরা ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
