যশোরে শিপ্রা ঘোষ নামের এক স্কুলছাত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে ইসকনের আট সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিহত শিপ্রার ভাই যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া রাজবাড়ী এলাকার পাপন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলার পর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তার প্রতিবেদনসহ আদালতে জমা দেওয়ার জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন একই এলাকার অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাস (৪০), সাধন অধিকারী (৫৮), রাম অধিকারী (৫৫), অর্জুন দাস, পার্থ দাস, পবিত্র, সঞ্জয় ও রঘু। এজাহারে আসামিদের ইসকনের সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শিপ্রা ঘোষ ভাতুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রধান আসামি অনুপম রায় অন্যদের সহযোগিতায় শিপ্রাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা শিপ্রার ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বাদী ও তাঁর ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে চাঁচড়া রাজবাড়ীতে তাঁদের বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় বাড়িতে থাকা শিপ্রাকে তাঁরা মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। মেয়ের চিৎকার শুনে বৃদ্ধ মা এগিয়ে গেলে আসামিরা তাঁকেও মারধর করে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মাকে ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।
বাদীর অভিযোগ, এরপর শিপ্রাকে এলোপাতাড়ি মারধরের পর আসামি অনুপম অন্যদের সহযোগিতায় গামছা পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে শিপ্রার ওড়না দিয়ে তাকে ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। পরে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে আসামিরা পালিয়ে যান।
পাপন কুমার ঘোষ ও তাঁর ভাই বাড়িতে ফিরে শিপ্রাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এরপরই বিচারের দাবিতে আদালতে এই মামলা করেন নিহত ছাত্রীর ভাই।
