মালয়েশিয়ায় বৈধ কাগজপত্র না থাকা এবং এক কোম্পানির পারমিট নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিযোগে বাংলাদেশিসহ ১৭৫ বিদেশি কর্মীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পেরাক রাজ্যের ইপোহ শহরের বেরচাম এলাকায় ‘অপস মাহির’ নামের এক অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই বাংলাদেশি।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বেরচাম এলাকার একটি কাঠের কারখানা, গ্লাভস তৈরির কারখানা ও একটি খাবারের দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। মোট ৩০৫ জন শ্রমিকের কাগজপত্র ও কর্মস্থল যাচাই-বাছাই শেষে এই ১৭৫ জনকে আটক করা হয়। আটক বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে এসব কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, বৈধ পারমিট ছাড়া কাজ করা এবং এক কোম্পানির নামে ইস্যু করা পারমিট দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ইমিগ্রেশন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অভিযানকালে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা যাচাই করতে গিয়ে বেশ কয়েকজনের কাছে জাল সাময়িক কর্মভ্রমণ পাস (পিএলকেএস) পাওয়া গেছে। এই জাল পিএলকেএস কোথা থেকে আসছে, কারা এসব তৈরি করছে এবং কীভাবে তা বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে—তা গভীরভাবে তদন্ত করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা মধ্যস্থতাকারী এজেন্ট জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে জাল নথি ব্যবহারকারী নিয়োগকর্তাদের ভূমিকাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো নিয়োগকর্তা জেনেশুনে এই ভুয়া পিএলকেএস ব্যবহার করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন কি না, তা প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইপোহের এই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যাগরিষ্ঠই বাংলাদেশি হওয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈধ পারমিট থাকার পরও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে বা অন্য কোম্পানির অধীনে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থল পরিবর্তন করলে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট