বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এর মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফকল্যান্ডস ব্যানার প্রদর্শন এবং ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে খেলোয়াড়দের বিশৃঙ্খলার বিষয়গুলোও রয়েছে। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের বিরুদ্ধেও পৃথকভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফিফার প্রকাশিত অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২-১ গোলের জয়ের পর উদ্যাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। মালভিনাস নামেই আর্জেন্টিনায় পরিচিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকলেও এর মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের ২(গ) ধারায় বলা হয়েছে, খেলাধুলার কোনো আসরকে রাজনৈতিক বা অক্রীড়াসংক্রান্ত বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। মূলত এ কারণেই ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার নজির আগেও রয়েছে। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের বড় ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৮৩৩ সাল থেকে দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৮২ সালে এ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে ৯০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন, যাঁর মধ্যে ৬৪৯ জন আর্জেন্টিনার এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।
ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। তৎকালীন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’ অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাক্স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।’
ফাইনালে সংঘাত ও অন্যান্য অভিযোগ তবে বর্তমান তদন্ত শুধু ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই। ফিফার অভিযোগপত্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু, ম্যাচ ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রোটোকল লঙ্ঘন, দল ও সমর্থকদের মাধ্যমে অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ম্যাচে দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারের পর মাঠে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ নিয়েও তদন্ত চলছে। নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনের খেলোয়াড়েরা শিরোপা উদ্যাপন শুরু করলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
ওই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ১(আই) ধারায় তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে দুটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার একটি সম্পন্ন হামলা এবং অন্যটি হামলার চেষ্টা। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণেরও একটি অভিযোগ রয়েছে।
সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ এবং ফাইনালে বদলি বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ। অন্যদিকে স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ এনেছে ফিফা।
ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলাবিধি অনুসারে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর যথাসময়ে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট