বড় কোনো টুর্নামেন্ট বা চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর উদ্যাপনের নানা ধরন দেখা যায়। এর মধ্যে একটি হলো খেলোয়াড়দের গোলপোস্টের জাল কেটে বা ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়া। ফুটবল কিংবা ল্যাক্রসের মতো খেলায় এটি বহুদিনের পুরোনো একটি ঐতিহ্য, যা বিজয়ের স্মৃতি ধরে রাখার বিশেষ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সময়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। এদিন শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠের উদ্যাপনের সময় বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের গোলের জালের অংশ কেটে নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।
কেন এই জাল কাটা?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন খেলোয়াড়েরা এমনটি করেন? ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, খেলোয়াড়দের কাছে এটি শুধু একটি সাধারণ জালের টুকরো নয়; বরং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্তের একটি বাস্তব স্মারক। শিরোপা জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা খেলোয়াড়েরা এই জালের টুকরোটিকে তাঁদের পরিশ্রম ও সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখেন। অনেকেই আবার এটিকে ভবিষ্যতের জন্য ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’ বলেও মনে করেন।
ফুটবলে কীভাবে জনপ্রিয় হলো এই রীতি?
বিশ্ব ফুটবলে এই উদ্যাপন নতুন মাত্রা পায় স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের হাত ধরে। ক্যারিয়ারে একাধিক বড় শিরোপা (বিশ্বকাপ, ইউরো ও চ্যাম্পিয়নস লিগ) জয়ের পর গোলের জালের অংশ কেটে স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করার রীতি শুরু করেছিলেন তিনি। মূলত তাঁর দেখাদেখি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও এই রীতি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বর্তমানে বড় কোনো ফাইনাল বা গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জয়ের পর গোলপোস্টের জালের একটি অংশ সংগ্রহ করা অনেক দলের জন্যই অলিখিত এক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এটি যেমন বিজয়ের বাঁধভাঙা আনন্দের প্রকাশ, তেমনি ইতিহাসের একটি সোনালি অধ্যায়কে নিজের কাছে সযত্নে ধরে রাখারও দারুণ এক উপায়।

ডেস্ক রিপোর্ট